গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে নতুন আলোচনা: বাংলাদেশের দাবি ও সর্বশেষ অবস্থা
রোকন উদ্দীন বাবলু এম.পি |
প্রতিবেদক:
K SHAKIL RANA
প্রকাশিত: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৬:৪৮ পূর্বাহ্ণ
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে আলোচনা
গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে নতুন আলোচনা: বাংলাদেশের দাবি ও সর্বশেষ অবস্থা
বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি নিয়ে নতুন করে আলোচনা চলছে। ১৯৯৬ সালের ১২ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত ৩০ বছর মেয়াদি এই চুক্তির মেয়াদ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরে শেষ হওয়ার কথা। তাই চুক্তির ভবিষ্যৎ, শুষ্ক মৌসুমে পানির ন্যায্য হিস্যা এবং নতুন চুক্তির শর্ত নিয়ে গুরুত্ব বাড়ছে।
১৯৯৬ সালের চুক্তিতে কী ছিল?
১৯৯৬ সালে বাংলাদেশ ও ভারত গঙ্গার পানিবণ্টন নিয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছায়। এই চুক্তির আওতায় ফারাক্কা পয়েন্টে শুষ্ক মৌসুমে পানির প্রাপ্যতা বিবেচনা করে দুই দেশের মধ্যে পানি বণ্টনের নিয়ম নির্ধারণ করা হয়।
বাংলাদেশে গঙ্গার নিম্নপ্রবাহ পদ্মা নামে পরিচিত। পদ্মার পানিপ্রবাহ কৃষি, সেচ, মৎস্যসম্পদ, নদীর নাব্যতা এবং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পরিবেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত।
বাংলাদেশ কী চাইছে?
বাংলাদেশের পক্ষ থেকে নতুন বা সংশোধিত দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুমে বাংলাদেশের প্রাপ্য পানির নিশ্চয়তা নিশ্চিত করতে কার্যকর শর্ত রাখার বিষয়টি আলোচনায় রয়েছে।
এ ছাড়া নদীর পানিপ্রবাহের তথ্য বিনিময়, পানি বণ্টনের স্বচ্ছতা এবং বর্ষাকালে অতিরিক্ত পানির প্রবাহ ব্যবস্থাপনায় দুই দেশের সহযোগিতাও গুরুত্বপূর্ণ।
গ্যারান্টি ক্লজ কী?
গ্যারান্টি ক্লজ বলতে চুক্তির এমন শর্ত বোঝায়, যা নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে পানির প্রাপ্যতা নিশ্চিত করার ব্যবস্থা নির্ধারণ করে। বাংলাদেশের আলোচনায় এই ধরনের নিশ্চয়তামূলক শর্ত বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।
তবে নতুন চুক্তিতে ঠিক কত পরিমাণ পানি নিশ্চিত করা হবে, পানির ঘাটতি হলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে এবং কীভাবে চুক্তি কার্যকর করা হবে—এসব বিষয়ে চূড়ান্ত শর্ত প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।
চুক্তি নবায়ন না নতুন চুক্তি?
পুরোনো চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো এবং নতুন শর্তসহ নতুন চুক্তি করা এক বিষয় নয়। নতুন চুক্তি হলে পানির পরিমাণ, তথ্য যাচাই, বিরোধ নিষ্পত্তি এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতার বিষয়গুলো স্পষ্টভাবে নির্ধারণ করা গুরুত্বপূর্ণ হবে।
দুই দেশের আলোচনার ফলাফলই নির্ধারণ করবে ভবিষ্যতে গঙ্গার পানি কীভাবে বণ্টিত হবে।
বাংলাদেশের মানুষের জন্য কেন গুরুত্বপূর্ণ?
শুষ্ক মৌসুমে পর্যাপ্ত পানির অভাব হলে কৃষি ও সেচব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। নদীতে মিঠাপানির প্রবাহ কমে গেলে কোনো কোনো এলাকায় লবণাক্ততা, মৎস্যসম্পদ ও পরিবেশের ওপরও প্রভাব পড়তে পারে। তাই গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তি বাংলাদেশের খাদ্যনিরাপত্তা, পরিবেশ ও মানুষের জীবিকার সঙ্গে সম্পর্কিত।
সর্বশেষ অবস্থা
২০২৬ সালের ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, গঙ্গার পানিবণ্টন চুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে আলোচনা চলমান ছিল। নতুন চুক্তির পূর্ণাঙ্গ শর্ত, স্বাক্ষরের তারিখ এবং কার্যকর হওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী সরকারি ঘোষণার দিকে নজর রাখা প্রয়োজন।
সূত্র: বাংলাদেশ যৌথ নদী কমিশন এবং বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (BSS)। প্রকাশের আগে সর্বশেষ সরকারি ঘোষণা ও সংবাদ প্রতিবেদন যাচাই করুন।